Sunday, June 3, 2018

পর জন্মে মানুষ কী হয়ে জন্মাবে

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, এই জন্মের পাপই নির্ধারণ করে দেয় পরের জন্মে মানুষ কী হয়ে জন্মাবে। মানুষ যতই চেষ্টা করুক না কেন পুরো কর্মফল কখনোই বর্তমান জন্মে ভোগ করা যায় না। ভালো-খারাপ দুই ধরনের কাজেরই ফলাফল মেলে পরের জন্মে। শুধু তাই নয়, বর্তমান জন্মও প্রভাবিত হয় পূর্বজন্মের কৃতকর্ম দিয়ে। অর্থাৎ পরবর্তী জন্মের আগেই, পূর্বজন্মের কর্মফল অনুযায়ী ঠিক হয়ে যায়, পরের জন্মে কোন অবতারে জন্মগ্রহণ করবে একজন মানুষ।
বহু প্রাচীন গ্রন্থমতে, একটি মানব জন্ম পেতে গেলে তার আগে ৮৪ হাজার বার মানুষকে জন্মাতে হয়। এককোষী প্রাণী থেকে শুরু করে প্রায় পৃথিবীর যাবতীয় জীবজন্তুর রূপে জীবন কাটিয়ে তবেই পাওয়া যায় মানবজীবন।
এই নিয়ে বিস্তারিত বলে গেছেন মহর্ষি বেদব্যাস এবং অন্যান্য ঋষিরা। এমন বেশ কিছু পাপের পরজন্মের ফল উল্লিখিত রয়েছে হিন্দু পুরাণে। নিচে কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো........

১) খুনের জন্য অত্যন্ত কড়া শাস্তির বিধান দেয়া রয়েছে। এই কাজ করলে পরের জন্মে গাধা হয়ে জন্মাতে হবে। দিনরাত মালিকের অত্যাচার এবং অতিরিক্ত বোঝা বহন করাই হবে তার কৃতকর্মের ফল।

২) কোনো পুরুষ যদি ধর্ষণ করে তবে পরের প্রথম জন্মে তিনি হবেন নেকড়ে, দ্বিতীয় জন্মে শেয়াল, তৃতীয় জন্মে শকুন, চতুর্থ জন্মে সাপ এবং পঞ্চম জন্মে সারস।  

৩) সোনা চুরি করা পুরাণ মতে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এমন কাজ যে করবে তাকে পরের জন্মে পোকা হয়ে জন্মাতে হবে। পাশাপাশি, যদি কেউ রুপা চুরি করে, তাকে পরের জন্মে পায়রা হয়ে জন্মাতে হবে।

৪) কারো পোশাক চুরি করা বা কারো শরীর থেকে পোশাক টেনে নেয়ার মতো ঘৃন্য কাজ করলে সেই ব্যক্তিকে পরের জন্মে টিয়াপাখি হয়ে সারাজীবন খাঁচাবন্দি অবস্থায় কাটাতে হবে।

৫) যিনি পরিবারের বা পরিবারের বাইরের বায়োজ্যেষ্ঠ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং সর্বসমক্ষে অপমান করেন তাকে পরের জন্মে কাক হয়ে জন্মাতে হবে এবং কাকরূপে তাকে অন্তত ১০ বছর থাকতে হবে।

সুদর্শন চক্র

💜💜ওঁ নমঃ শিবায়💜💜
     সুদর্শন চক্র
কিভাবে ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্রটি পেয়েছিলেন?
ভগবান বিষ্ণুর শক্তিশালী অস্ত্র গুলির মধ্যে - একটি অন্যতম অস্ত্র হলো- সুদর্শন চক্র। সুদর্শন চক্রটি একটি নিরন্তর গুণমান চাকতি বা ডিস্কের মতো দেখতে একটি অস্ত্র। যার চারিদিকে ১০৮ টি আলাদা আলাদা ধারালো প্রান্ত থাকে। যা দেহের সংস্পর্শে আসা মাত্রই- নিমিষের মধ্যেই সেই অংশটি কেটে আলাদা হয়ে যায়। যার ক্ষমতা অপরিসীম। সুদর্শন চক্রটি এমন একটি অন্যতম অস্ত্র - যা ভগবান বিষ্ণু তাঁর মন দ্বারা পরিচালনা করে থাকেন। সাধারণতঃ হিন্দুধর্মের সমস্ত চিত্রগুলিতে সুদর্শন চক্রটি - ভগবান বিষ্ণুর চার হস্তের মধ্যে পিছনের দিকের ডান হস্তে দেখা যায়।
         তাহলে চলুন- জেনে নেয়, কিভাবে ভগবান বিষ্ণু এই সুদর্শন চক্রটি পেয়েছিলেন?
        শিব পুরাণে- বর্ণিত প্রথম থেকে জানা যায়- বহু পূর্বে এক সময় অসুর ও রাক্ষসরা স্বর্গ দখল করে- দেবতাদের উপর, পৃথিবী লোকে মানব জাতির উপর চরম অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেছিল। বারংবার দেবলোকে অসুরদের আক্রমন ঘটায়- দেবতারা নিরিপায় হয়ে ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হয়েছিলেন। দেবতারা ভগবান বিষ্ণুর কাছে দৈত্য ও রাক্ষসদের বিনাশ করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সেই সময় ভগবান বিষ্ণুর কাছে প্রবল ক্ষমতাশালী অস্ত্র না থাকায় তিনি দৈত্য ও রাক্ষসদের বিনাশ করতে সক্ষম হননি। এবং অসহায় হয়ে সাহায্যের আশায় ভগবান শিবের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন
              ভগবান বিষ্ণু- ভগবান শিবজীকে প্রসন্ন করার  উদ্দেশ্যে ঘোর তপস্যা করা শুরু করেন ও তিনি বছরের পর বছর সহস্র বছর ধরে তপস্যা করেছিলেন। কিন্তু তখনো ভগবান শিবজী ধ্যান মগ্ন থাকায়- ভগবান বিষ্ণু,  ভগবান শিবজীকে প্রসন্ন করারজন্য সহস্র পুষ্প বা একহাজার কমল পুষ্প দিয়ে এক হাজারবার শিবনাম জপ করার সংকল্প করেছিলেন। যখন ভগবান বিষ্ণু একহাজার কমলপুষ্প দিয়ে শিবনাম জপ করছিনেল- তখন তাঁর পুষ্প ভান্ডারে- ৯৯৯ টি পুষ্প ছিল। তাতে একটি কমল পুষ্প কম থাকায়,  শিব সহস্র নাম অসম্পূর্ণ হবার আশংকা উৎপন্ন হয়। তখন ভগবান বিষ্ণু ঐ একটি কমলের পরিবর্তে তাঁর নিজের নীল কমল সমান চক্ষু - ভগবান শিবকে অর্পন করেছিলেন। ও তাঁর সহস্র শিব নাম পুরণ করেছিলেন।
              তখন ভগবান বিষ্ণুর এরূপ ভক্তি ও শ্রদ্ধায় মুগ্ধ হয়ে ভগবান শিবজী প্রকট হয়েছিলেন। বিষ্ণু তখন একটি অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র গর্দান স্বরূপ প্রার্থনা করেছিলেন। ভগবান শিবজী - তাঁকে চিরন্তন গুণমান মহাশক্তিশালী সুদর্শন চক্রটি দিয়েছিলেন। যা সমস্ত শত্রুকে পরাস্ত করে দেবে। রাক্ষস বা দেবতা সবাইকে পরাজিত করে দেবে। সুদর্শন চক্রটি পাবার পর -ভগবান বিষ্ণু দৈত্য ও রাক্ষসদের বিনাশ করে দিলেন। এবং বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে শান্তি ফিরিয়ে- ধর্মের স্থাপনা করেছিলেন।
             শিব পুরাণ অনুযায়ী-  সুদর্শন চক্রটি বিশ্বকর্মা সূর্য্যের শক্তি দিয়ে তৈরী করেছিলেন। যা ভগবান শিবজী - ভগবান বিষ্ণুকে উপহার স্বরূপ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু সুদর্শন চক্রটি ভীষন শক্তিশালী ছিল যা ভগবান বিষ্ণু একাকি পরিচালনা করতে সক্ষম নন। তাই ভগবান শিবজী, সুদর্শন চক্রটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছিলেন।
         একটি সুদর্শন চক্র,  তিনি ভগবান বিষ্ণুকে প্রদান করেছিলেন। দ্বিতীয়টি তিনি- মাতা আদি শক্তিকে প্রদান করেছিলেন। এবং তৃতীয়টি পরশুরাম ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার - ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে - পূণরায় ধর্ম স্থাপনার উদ্দেশ্যে প্রদান করেছিলেন।

Friday, June 1, 2018

প্রদীপ জ্বালানোর

আমাদের নিত্য পুজোর শেষে কম-বেশি সবাই আমরা প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকি। বিশ্বাস করা হয় যে প্রদীপ না জ্বালিয়ে কোনও পুজোই শেষ হয় না। কিন্তু একথা কি জানা আছে যে বিশেষ কিছু দেব-দেবীর সামনে নিয়মিত সকাল-বিকাল প্রদীপ জ্বালালে এ জীবনে যে যে সমস্যার কথা আমরা জানি বা শুনে এসেছি, তার কোনওটাই মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। শুধু তাই নয়, জীবন পথে চলতে চলতে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা যে কোনও বাধা সরে যেতেও সময় লাগে না।
হিন্দু শাস্ত্রের উপর লেখা একাধিক বই অনুসারে বেশ কিছু দেব-দেবী আছেন, যারা প্রদীপের আলো বেজায় পছন্দ করেন, তাই তো তাঁদের আরাধনা করার পর যদি প্রদীপ জ্বালানো হয়, তাহলে দারুন সব উপকার মেলে।

১.)  প্রতিদিন সূর্য দেবতার সামনে প্রদীপ জ্বালালে সূর্যদেব এতটাই প্রসন্ন হন যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।  রবিবার হল সূর্য দেবের দিন। তাই এদিন সাকাল সকাল উঠে স্নান সেরে যদি সূর্যদেবকে জল দান করতে পারেন, তাহলে আরও অনেক উপকার মেলে।

২.) একথা তো সবাই জানেন যে প্রতি সোমবার দেবাদিদেবকে দুধ দিয়ে স্নান করালে মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়া যায়।  প্রতিদিন রাধা-কৃষ্ণের সামনে প্রদীপ জ্বালালে মনের মতো লাইফ পার্টনার তো মেলেই, সেই সঙ্গে বৈবাহিক জীবনে কোনও সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তা হল রাধা-কৃষ্ণের ছবির সামনে ভুলেও সকালবেলা প্রদীপ জ্বালাবেন না যেন! এক্ষেত্রে দিয়া জ্বালাতে হবে সন্ধ্যাবেলায়। কারণ এমনটা করলে তবেই কিন্তু উপকার মেলে।

৩.   পঞ্চমুখি হনুমানজির ছবি বা মূর্তির সামনে প্রদীপ জ্বালালে খারাপ স্বপ্ন আসার আশঙ্কা হ্রাস পাবে। সেই সঙ্গে মনের লুকিয়ে থাকা ভয় দূর হবে এবং বাড়ীর মধ্যে খারাপ শক্তির আগমণ ঘটার সম্ভাবনাও যাবে কমে। ফলে কোনও ধরনের খারাপ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আর থাকবে না।

৪.) শত চেষ্টা করেও কি টাকা জমাতে পারছেন না? এদিকে প্রতিদিন যেন খরচের মাত্রা বেড়েই চলেছে? তাহলে বন্ধু উত্তর দিকে ধন দেবতা কুবেরের ছবি বা মূর্তি রেখে প্রতিদিন কুবের দেবের সামনে প্রদীপ জ্বালানো শুরু করুন। দেখবেন অর্থনৈতিক সমস্যা মিটে যাবে।

৫.) অল্প সময়ে কর্মক্ষেত্রে চরম উন্নতি লাভ করতে যদি চান, তাহলে বাড়ির ঠাকুর ঘরে রাখা গণেশ দেবের সামনে অফিস বেরনোর আগে প্রদীপ জ্বালানো শুরু করুন। দেখবেন মনের ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, গণেশ দেব হলেন সমৃদ্ধির দেবতা। তাই তো প্রতিদিন বাপ্পার সামনে দিয়া জ্বালালে দেব বেজায় প্রসন্ন হন। ফলে পরিবারে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতে সময় লাগে না।

৬.) রাম,লক্ষণ, সীতা এবং হনুমানজি একসঙ্গে রয়েছেন এমন ছবির সামনে প্রতিদিন প্রদীপ জ্বালালে বাড়ীর মধ্যে উপস্থিত খারাপ শক্তি দূরে পালায়। ফলে পরিবারের মধ্যে কোনও কলহ বা বিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যেমন হ্রাস পায়, তেমনি ভাইয়-ভাই এ হওয়া বিবাদ বা ঝগড়া মিটে যেতেও সময় লাগে না।

প্রসঙ্গত, দেব-দেবীদের সামনে প্রদীপ জ্বালানোর সময় কতগুলি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। কারণ এই নিয়মগুলি না মানলে কিন্তু কোনও সুফলই পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে, সেগুলি হল........

ক) প্রদীপ জ্বালানোর সময় কম করে দুটো এবং সর্বচ্চ তিনটি সোলতে জ্বালানো উচিত। কারণ এমনটা করলে দূর্গা, লক্ষ্মী এবং সরস্বতী দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব হয়।

খ) খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই প্রদীপ জ্বালানোর সময় হাতে লাগা তেল হয় পরে থাকা জামায় মুছে ফেলেন, নয়তো চুলে লাগিয়ে নেন। কিন্তু এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে দিনের পর দিন এমনটা করলে মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই যদি এমন ঘটনা এড়িয়ে চলতে চান, তাহলে ঠাকুর ঘরে হাত মোছার একটা পরিচ্ছন্ন কাপড় রাখতে ভুলবেন না যেন।

গ) প্রদীপ জ্বালানোর সময় কী ধরনের তেল ব্যবহার করা উচিত জানা আছে? বিশেষজ্ঞদের মতে দেবতাদের সামনে দিয়া জ্বালানোর সময় হয় সরষের তেল অথবা ঘি ব্যবহার করা উচিত। কারণ এমনটা করলে পরিবারে সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে। সেই সঙ্গে বাড়ীতে সুখ-শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।